রিফিল প্যাক কেন করা হয়?
নরমালি ম্যাক্সিমাম স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট প্লাস্টিক কন্টেইনারে আসে। যদিও স্কিনকেয়ারের কন্টেইনার গুলো উন্নতমানেরই হয় তবুও ইউস শেষে আমরা যখন সেগুলো ফেলে দেই তখন সেটি আমাদের পরিবেশের জন্য হার্মফুল। কারন প্লাস্টিক মাটিতে মিশে যায় না ক্রমে বর্জ্য হিসেবে জমা হয় লোকালয়ে, নদী ও সাগরে। সেগুলো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠীয় পানির সঙ্গে মিশে যায়। আর এভাবেই প্রতিনিয়ত পরিবেশ ও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। প্লাস্টিকসামগ্রী পুড়িয়ে ফেললে আরও বিপদ—হাইড্রোকার্বন হয়ে বাতাসে মিশে তা বাড়িয়ে দিচ্ছে দূষণের মাত্রা। এত্তো এত্তো সমস্যা বিবেচনা করে বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় " Recycling plastic / Reusing Plastic " ট্রেন্ড কার্যকরী করার প্রচেষ্টা শুরু করা হয়। সে ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত দেশগুলো তাদের স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে Reusing Plastic ট্রেন্ডে রিফিল প্যাক তৈরী করে থাকেন। যারা প্রোডাক্ট রি-পার্চেজ করবে তারা রিফিল কিনে আগের কন্টেইনারে ঢেলে ইউস করবে। এতে আগের প্লাস্টিকটি কাজে লেগে গেল সেটা ফেলনা হলো না আবার নতুন করে প্লাস্টিক ইউস ও হলোনা।
কারা রিফিল প্যাক নিবেন?
অবশ্যই যে প্রোডাক্টের রিফিল প্যাক নিবেন সেই প্রোডাক্টের মেইন কন্টেইনার থাকতে হবে। প্যাক থেকে মেইন কন্টেইনারে ঢেলে ইউস করতে হবে। অন্য কোন কন্টেইনারে রাখা যাবে না। তারমানে যারা আগে রিফিলের মেইন কন্টেইনারের প্রোডাক্ট ইউস করেন নি তারা নিবেন না রিফিল প্যাক।
জে-বিউটি রিফিল ফরম্যাটঃ
বিউটি সিরাম জাপানে প্রায় সবকিছুর ই রিফিল সাইজ মিলে। এমনকি অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে আপনি এখানে এমনকি সানস্ক্রিন বা কলমগুলোও কে ও রিফিলযোগ্য দেখবেন।

রিফিল এর ব্যাপারে সতর্কতাঃ
একটি প্রডাক্ট প্যাকেজিং এর সময় সেই প্রডাক্ট এর স্থায়িত্ব ও কিন্তু নির্ধারণ করা হয় এবং সঠিক প্যাকেজিং নিশ্চিত করতে আলাদাভাবে ল্যাব টেস্ট সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সহ সব ধরণের পরিক্ষা-নিরীক্ষা করেই তা ফর্মুলেশন করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে রিফিল প্যাক ও ব্যবহারের জন্য সতর্কতা প্রয়োজন,
১/ রিফিল প্যাক শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট প্রডাক্টের মেইন বোতলের জন্যেই ব্যবহার করা যাবে। টাকা বাঁচাতে রিফিল প্যাক কিনে অন্য বোতলে তা সংরক্ষণ করলে কিন্তু এটার গুণাগুণ আর থাকবেনা। কারণ জাপানিজ প্রডাক্ট এর প্যাকেজিং এই স্পষ্ট থাকে যে সেই রিফিল অন্য বোতলে রাখা যাবেনা।

২/ রিফিলের জন্য মেইন বোতল কোন ভাবেই ধোয়া যাবেনা, অনেকে রিফিল করার সময় ভাবেন যে মেইন বোতল ধুয়ে একদম পরিস্কার করে রাখবেন৷ এটা কিন্তু করা যাবেনা,কারণ রিফিল প্যাকে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে যে বোতল ধোয়া উচিত নয়।এতে করে রিফিলের সাথে পানি ও আদ্রতা ঢুকে প্রডাক্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এর উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হল শ্যাম্পু,বডিওয়াশ ও কন্ডিশনার। এগুলোর মেইন বোতল ভাল মত ধুয়ে রাখতে পারবেন কারণ এইসব প্রডাক্ট বাথরুমে বা স্যাতস্যাতে জায়গায় থাকার কারণে ফাংগাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের চান্স থাকে,সেজন্য বোতল ভাল মত ধুয়ে স্যানিটাইজ করে একদিন দু দিন বাতাসে ভাল মত শুকানোর পর রিফিল করতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রডাক্ট হাইজিন মেন্টেন করতে হবে নিজ দায়িত্বে।
৩/ প্রসাধণী বা স্কিন কেয়ারের রিফিলের বোতলগুলো কিন্তু পানির বোতল বা খাবারের পাত্রের মত নয়। তাই বারবার রিফিলের জন্য কেয়ারফুল থাকতে হবে, জাপানে ওরা ২/৪ বারের বেশি রিফিল করার জন্য নিরুৎসাহিত করে। কারণ বারবার রিফিলে মেইন প্লাস্টিকের বোতলের হাইজিন কতটা থাকবে তা নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন মিশ্রণের সংস্পর্শে আসা, উচ্চ তাপ ( স্যানিটাইজ এর ক্ষেত্রে), আদ্রতা ইত্যাদি দ্বারা সৃষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি সহ্য করার ক্যাপাবিলিটি টেস্ট করা হয়না প্লাস্টিকের বোতলের। তাই বারবার রিফিল ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে।

৪/ প্রডাক্ট আফটার ওপেনিং PAO বা প্রডাক্ট খোলার পরের সময়কালের প্রতি বেশি মনযোগ দিতে হবে। দামে কম দেখে বা অফার পেয়ে রিফিল প্যাক কিনে যদি সংরক্ষণ করতে চান তবে তার চিন্তা বাদ দিতে হবে। কারণ স্বাভাবিকভাবেই রিফিল প্যাক মেইন বোতলে ডিক্যান্ট করতে হয় আর তা করতে গেলে অনিবার্যভাবে তা আলো, বাতাস ও আদ্রতার সংস্পর্শে আসে যা এর আয়ুকে ছোট করে দিবে।
সাধারণত রিফিল প্যাক বা পাউচগুলি শুধুমাত্র রেগুলার ব্যবহৃত প্রডাক্টের জন্য নেয়া উচিত যেগুলো আপনি দ্রুত শেষ করতে পারবেন বা ব্যবহার করতে পারবেন।
#Refill #howto
Content Courtesy: Ftz Boishakhi & Fahmina Rahman
Source:
