তৈলাক্ত ত্বকে ময়শ্চারাইজার প্রয়োজন?
ময়শ্চারাইজার দিলে ত্বক আরো বেশি পরিমাণে তেলতেলে লাগবে, গ্রিসি লাগবে, কাল লাগবে এবং খুবই অস্বস্থি অনুভব হবে। কিন্তু, বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। একটি ভাল ময়শ্চারাইজার এর কাজ হলো, আপনার ত্বকের পানির এবং তেলের সুন্দর একটা ব্যালান্স তৈরি করে ত্বকের যাবতীয় সমস্যা থেকে দূরে রাখা।

তৈলাক্ত ত্বকে ময়শ্চারাইজার প্রয়োজন?
তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে সবথেকে সমস্যায় থাকি। মুখে কিছু ব্যবহার করবো কি করবো না সেটা নিয়ে খুবই দ্বিধার মধ্যে থাকি। আমরা মনে করি, আমাদের ত্বক এমনিতেই তেলতেলে, আমাদের কোন প্রকার ময়শ্চারাইজার এর প্রয়োজন নেই।
আমরা ভাবি, ময়শ্চারাইজার দিলে ত্বক আরো বেশি পরিমাণে তেলতেলে লাগবে, গ্রিসি লাগবে, কাল লাগবে এবং খুবই অস্বস্থি অনুভব হবে। কিন্তু, বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। একটি ভাল ময়শ্চারাইজার এর কাজ হলো, আপনার ত্বকের পানির এবং তেলের সুন্দর একটা ব্যালান্স তৈরি করে ত্বকের যাবতীয় সমস্যা থেকে দূরে রাখা।
তৈলাক্ত ত্বকে ময়শ্চারাইজার কেন প্রয়োজন:
- ত্বকের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব কম করার জন্য:
তৈলাক্ত ত্বকের মানুষ এটা ভেবে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে চান যে, এটা ত্বক কে আরো বেশি তেলতেলে করে ফেলবে। কিন্তু, এটাই সব থেকে বড় ভুল। কারণ, একটি উপযুক্ত / আদর্শ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ত্বকের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। যখন ত্বক পর্যাপ্তভাবে ময়শ্চারাইজড থাকে না, তখন এটি সেবেসিয়াস গ্রন্থিগুলিকে সংকেত দেয় যে, ত্বকে পর্যাপ্ত তেল এবং পানি নেই। আর তখনই সেবেসিয়াস গ্রন্থিগুলি ত্বকের এই শুষ্কতা কমানোর জন্য বেশি বেশি করে তেল উৎপাদন করতে থাকে এবং মুখকে আরো বেশি তেলতেলে করে তোলে। তাই, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে অত্যধিক সিবাম উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা কমে যায় এবং ত্বককে আলাদাভাবে বাড়তি তেলতেলে করে না।

- ত্বকের ব্যারিয়ারকে ভাল রাখার জন্য:
ত্বকের ব্যারিয়ার যত মজবুত হবে, ত্বকের সমস্যা তত কম হবে। কারণ, একটি ভাল ত্বকের ব্যারিয়ার অর্থ, ত্বকের বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার সাথে লড়াই করার ক্ষমতা রাখা। ময়েশ্চারাইজারগুলি ত্বকের ব্যারিয়ারকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, যা যে কোন প্রকার দূষণ, অণুজীব (ব্যাকটেরিয়ার) মতো বাহ্যিক আক্রমণকারীদের থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য এবং ত্বকের তেলের ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।

- ত্বককে ডিহাইড্রেসন থেকে মুক্তি দেয়:
শুনতে অবাক লাগলেও, তৈলাক্ত ত্বক পানিশূন্য হতে পারে। ডিহাইড্রেশন বলতে ত্বকে পানির অভাব বোঝায়, অন্যদিকে তৈলাক্ততা বলতে সিবামের (ত্বকের প্রাকৃতিক তেল) অতিরিক্ত উৎপাদনকে বোঝায়। ডিহাইড্রেটেড ত্বক আঁটসাঁট, নিস্তেজ লাগতে পারে এদিকে, ত্বক আর্দ্রতার অভাব হলেও সেটা ব্যালান্স করার চেষ্টা করার কারণে তেল উত্পাদন বৃদ্ধি পেতে পারে।

- একনি / ব্রণের সমস্যা থেকে দূরে রাখে:
ডিহাইড্রেটেড ত্বক খুব সহজেই একনি এবং ব্রেকআউট ট্রিগার করতে পারে। ত্বককে সঠিকভাবে হাইড্রেটেড রেখে, আপনি ব্রণ এবং দাগ হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে পারেন।
- ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে ( Premature aging) যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং অকালে ফাইন লাইন্স এবং বলি রেখা হবার প্রবণতা হ্রাস করে।
তৈলাক্ত ত্বকে কেমন ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন:
ত্বকের প্রয়োজন অনুসারে যেকোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। তবে, একটু লাইট ওয়েট, জেল টাইপের ময়েশ্চারাইজার সবথেকে ভাল অপশন। তবে, ফর্মূলেশন সব সময় গুরত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে তাই, অনেক ক্রিম টাইপ ময়েশ্চারাইজার ও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী।
Content Courtesy: Samina Noor Tracy