Hard Water: ত্বক ও চুলের যত্নের সাথে Hard water এর সম্পর্ক
স্কিনকেয়ার,খাওয়া ঘুম সব ঠিকঠাক থাকার পরেও, এমনকি ইন্টারনাল কোনো প্রব্লেম না থাকা সত্ত্বেও স্কিন প্রব্লেম কিছুতেই যাচ্ছে না? একনি,ব্রেকআউটস,ডিহাইড্রেশন লেগেই আছে? এমনকি চুলও দিনদিন ফ্রিজি ড্যামেজ হয়ে যাচ্ছে? তাহলে সবার আগে আপনার বাসার পানি চেক করুন। আজ কথা বলবো আমাদের দেশের অন্যতম একটি সমস্যা Hard Water নিয়ে।

স্কিনকেয়ার,খাওয়া ঘুম সব ঠিকঠাক থাকার পরেও, এমনকি ইন্টারনাল কোনো প্রব্লেম না থাকা সত্ত্বেও স্কিন প্রব্লেম কিছুতেই যাচ্ছে না? একনি,ব্রেকআউটস,ডিহাইড্রেশন লেগেই আছে? এমনকি চুলও দিনদিন ফ্রিজি ড্যামেজ হয়ে যাচ্ছে? তাহলে সবার আগে আপনার বাসার পানি চেক করুন। আজ কথা বলবো আমাদের দেশের অন্যতম একটি সমস্যা Hard Water নিয়ে।
স্কিনের সমস্যার জন্য আমরা সবকিছু পর্যালোচনা করলেও, হার্ড ওয়াটারের বিষয়টি আমরা একদমই খেয়াল করিনি বা আমলে নিই না। এটি আমাদের মাথা থেকেই বেরিয়ে যায়। কিন্তু এই হার্ড ওয়াটারই অনেক সময় আপনার স্কিনের এতোসব সমস্যার জন্য অন্যতম কারন হতে পারে কিন্তু।
প্রথমেই জেনে নিই হার্ডওয়াটার মূলত কি?
হার্ড ওয়াটার হলো যে পানি খুব বেশী পরিমাণে মিনারেল ইনগ্রিডিয়েন্ট মেশানো থাকে। হার্ড ওয়াটারে সবচেয়ে বেশী মেশানো থাকে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং কিছু পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, অ্যালুমিনিয়াম। মূলত সহজ ভাষায় আমাদের পরিচিত আয়রনযুক্ত পানিই হার্ড ওয়াটার।
এখন হার্ড ওয়াটার কিভাবে চিনবো?
হার্ড ওয়াটার কিছুটা লাল বর্নের হয়। সাধারণত এই পানি কোনো কিছুটা রাখলে সেটার তলা ধীরে ধীরে লালচে হয়ে যায়। অতিরিক্ত পরিমাণে খনিজ পদার্থ মিশ্রিত পানি ঘোলা হয়ে থাকে। এছাড়াও এ ধরণের পানি চেনার আরেকটি উপায় হলো এগুলোকে তাপ দেয়ার পরে ঠান্ডা করলে সাদাটে রঙের ভারী তলানী জমে। এছাড়া হার্ড ওয়াটারে নরমাল পানির তুলনায় সাবানের, বডিওয়াশের, ডিটারজেন্টের ফেনা কম হয়। হার্ড ওয়াটার আর বিশুদ্ধ পানি সমপরিনাণ নিয়ে, তাতে সমপরিমাণ ডিটারজেন্ট মেশালে দেখা যাবে যে হার্ড ওয়াটারে ফেনা/বাবল কম হবে এবং পানি ঘোলা হবে বেশী। আর বিশুদ্ধ পানিতে ফেনা বেশী হবে এবং হার্ড ওয়াটারের তুলনায় কম ঘোলা হবে পানি।
স্কিন প্রব্লেমের সাথে হার্ড ওয়াটারে সম্পর্ক কি?
হার্ড ওয়াটারের কারনে হওয়া অন্যতন একটি স্কিন প্রব্লেম হলো ডিহাইড্রেশন। হার্ড ওয়াটারে খুব বেশী পরিমাণে খনিজ থাকার কারনে এটা ইউজে আমাদের বডির স্কিন, ফেসের স্কিন ডিহাইড্রেট, ফ্ল্যাকি,ড্রাই হয়ে যায়। এছাড়াও স্কিনে Redness, itchiness, Rash ইত্যাদি সমস্যাও দেখা যায় হার্ড ওয়াটারের জন্য। এই ধরণের পানির আরেকটি বড় স্কিন প্রব্লেম হলো আমাদের স্কিনের পোরস ক্লগ করে ফেলে, যার ফলে দেখা দেয় একনি প্রব্লেম!
হেয়ারের প্রব্লেমের সাথে হার্ড ওয়াটারের সম্পর্ক কি?
হার্ড ওয়াটার দিয়ে চুল ধোয়া ফলে এটি ধীরে চুলকে ড্যামেজ, রাফ, নিস্তেজ করে দিতে পারে। হার্ড ওয়াটারের খনিজ উপাদান চুলের বাইরের লেয়ার একটা ফিল্ম আবরণ তৈরি করে। যার ফলে চুলে বাইরে থেকে ময়েশ্চার প্রোভাইড করলেও তা চুলে প্রবেশ করতে পারেনা এবং ফলস্বরূপ চুল হয়ে পরে ডিহাইড্রেট,ড্রাই,রাফ এবং ধীরে ধীরে চুল ভেঙে পরা শুরু হয়। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে চুলে হার্ড ওয়াটারের ব্যবহারে ফলে চুল পড়াও শুরু হয়।
শুধুমাত্র চুলে নয়, স্ক্যাল্পেও হার্ড ওয়াটারের ফলে অনেক সমস্যা দেখা যায়। এই পানির ফলে স্ক্যাল্প ধীরে ধীরে ড্রাই হয়ে যায়, যা থেকে উৎপত্তি হয় খুশকির। খনিজ উপাদানগুলো ফলিকলকেও ব্লক করে দেয়, যা থেকে শুরু হয় itchiness, inflammation!
হার্ড ওয়াটার থেকে বাঁচার উপায়?
আমাদের শরীরের জন্য পান করা পানি যেমন বিশুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন,তেমনি আমাদের ব্যবহার করা পানিও বিশুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। তাই বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে অবশ্যই। ফিল্টার করা পানি ইউজ করার চেষ্টা করতে হবে, অথবা পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ব্যবহার করতে হবে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা একধরনের ট্যাপ ফিলটার পাওয়া যায় যেটা দিয়ে পানি পুরোপুরি বিশুদ্ধ না হলেও,কিছুটা পরিমাণেও হলেও খনিজ অপসারণ হয়,সেটা ইউজ করা যেতে পারে। মোটকথা যেভাবেই হোক, পানি বিশুদ্ধ করে ইউজ করতে হবে। আর যাদের ঘনঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস আছে, তার হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন। গোসলের সময় সাবানের পরিবর্তে বডিওয়াশ ইউজ করতে পারেন।
Content Courtesy: Israt Onu