DIY স্কিন কেয়ার কি?
DIY মানে হল: do it yourself, সহজ ভাষাতে, নিজে নিজে রান্নাঘরের এবং প্রকৃতি থেকে নেওয়া ফুল ফল লতা পাতা নিয়ে বেটে/ব্লেন্ড করে মিক্স করে রূপ চর্চা কে বলে DIY skin care.
মানুষ এই বাড়িতে তৈরি মিশ্রণগুলি চেষ্টা করে দেখতে আগ্রহী কারণ এটি বানাতে টাকা খরচ হয় না এবং বেশিরভাগ উপাদান আপনার রান্নাঘর থেকে আসে। এছাড়াও, প্রভাবশালী , beauty blogger (তথাকথিত) এবং সেলিব্রিটিরা আপনাকে অনলাইনে দেখাচ্ছেন, তারাও এগুলো ব্যবহার করছেন এবং মানুষকে একই কাজ করতে উতসাহিত করে। বেশিরভাগ লোকেরা যা বোঝে না তা হল এই DIY স্কিনকেয়ার পণ্যগুলি ভালর ভাল তো করছেই না, অনেক বেশি ক্ষতি করে ফেলছে.
কেন DIY কে খারাপ বলছি:
১। DIY স্কিনকেয়ারের উপাদানগুলির সঠিক পরিমাপ এবং ত্বকের pore এর ভিতরে ঢোকার মত অনুবিক আকার নেই:
আপনি যদি লেবু দিয়ে মুখের ক্রিম বানান, তাহলে শুধু লেবুকে অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশিয়ে মুখে লাগালে আপনি এর কোন সুবিধা পাবেন না। কারণ, লেবুর রসের আকার - ত্বকের pore থেকে অনেক বড়। ছোট ছিদ্র দিয়ে যেমন বড় ইটের টুকরা যেতে/প্রবেশ করতে পারবে না, তেমনি ছোট pore দিয়ে লেবুর রস ত্বকের ভিতরে যেতে পারবে না। তাই ত্বক সেটা absorb করতে পারে না। কিন্তু, কসমেটিক কোম্পানিগুলি/বিজ্ঞানীরা সঠিক আণবিক ফর্ম বুঝতে পারে। কোন একটি উপাদান কত অনুবিক ফর্মে আসলে সেটি আপনার ত্বক শোষণ করতে পারবে সেটা সেই কোম্পানি গুলো /বিভিন্ন ল্যাব এ রিসার্চ করে বের করা হয়। যে উপাদানটি আপনার ত্বকের জন্য সঠিক অনুপাতে শোষণ করতে সক্ষম, সেটা উনারা সেভাবেই একটি বিউটি প্রোডাক্ট এ যোগ করেন।
২। DIY স্কিনকেয়ারে উপাদানগুলির সঠিক ঘনত্ব থাকে না:
আমাদের ত্বক এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এটি ধুলো এবং ময়লাকে ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। তেমনি ভাবে Homemade এর পণ্যগুলিও ত্বক ভিতরে প্রবেশ করতে দেয় না, বাধা প্রদান করে। সুতরাং আপনি যখন একটি homemade/DIY ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগ করেন , তখন আপনার ত্বক সত্যিই এটির কিছুই শোষণ করতে পারে না।
প্রসাধনী কোম্পানি এটি বোঝে এবং এমন উপাদান ঘনত্বের সাথে পণ্য তৈরি করে যা ত্বক পর্যাপ্ত পরিমাণে শোষণ করতে পারে। যেমন: Hadalabo ব্র্যান্ড এর লোশন গুলো বা যেকোন ব্র্যান্ড এর সেরাম গুলো।
৩। DIY স্কিনকেয়ার মিশ্রণ Preserve করা যায় না এবং দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়:
প্রিজারভেটিভগুলি কে মানুষ খারাপ চোখে দেখে। কিন্তু সত্যি বলতে এগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যদি আপনি চান যে আপনার পণ্যটি শীঘ্রই খারাপ না হয় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর থাকে। DIY স্কিনকেয়ার পণ্যে ব্যবহৃত বেশিরভাগ উপাদানই দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আপনি যখন DIY স্কিনকেয়ার পণ্য তৈরি করেন, তখন সেগুলি খারাপ হওয়ার একটি উচ্চ সম্ভাবনা থাকে এবং এই খারাপ মিশ্রণ ব্যাবহার করে আপনার ত্বকে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের মারাত্বক ঝুঁকি থাকে। আর এই কারণেই মুখে ব্রেক আউট হবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই কারণেই beauty industry থেকে manufacturing করা স্কিনকেয়ার পণ্যগুলি ব্যবহার করা সবচেয়ে ভাল।
৪। ঘরে বানানো স্ক্রাব ত্বকের ক্ষতি করতে পারে:
সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজে তৈরি করা DIY স্কিনকেয়ার পণ্য হল ঘরে তৈরি স্ক্রাব। যেমন: মধু চিনির মিশ্রণ /চালের গুঁড়ো দিয়ে স্ক্রাব করা। এটি ব্যবহার করার পরে আপনি ভাবেন - আপনার ত্বক মোলায়েম এবং সতেজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু , অনেক DIY স্ক্রাবের মধ্যে অমসৃণ/ধারালো কণা থাকে যা আপনার ত্বককে মাইক্রোস্কোপিকভাবে কাটতে পারে। যা ত্বকের ক্ষতি করে এবং আরও বেশি করে ব্যাকটেরিয়া প্রবশের সুযোগ বানিয়ে দেয়।
কিছু ব্যক্তি বিশ্বাস করেন, স্কিন কেয়ারে সরাসরি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যাবহার করা ভালো না। আবার কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন যে কৃত্রিম পণ্যগুলিতে ক্ষতিকারক এবং বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকে তাই সেটা নিরাপদ নয়। আপনার মতামত কি? কথাগুলো কতটুকু সত্য??
প্রাকৃতিক বনাম clean skin care:
কিছু লোক ক্লিন স্কিন কেয়ার পণ্যের সাথে প্রাকৃতিক স্কিনকেয়ার পণ্যগুলিকে গুলিয়ে ফেলেন। আজকাল ভিন্ন ভিন্ন influencer এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এবং তাদের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ক্লিন beauty এবং প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে skincare মধ্যে যে আসলে পার্থক্য আছে, সেটা অনেকেই ভুলতে বসেছেন।
ক্লিন beauty প্রোডাক্টে সিন্থেটিক বা প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত উপাদান (ত্বকের জন্য উপযোগী অবস্থায় থাকে) থাকতে পারে, যার সবকটিই পরীক্ষিত এবং নিরাপদ বলে প্রমাণিত এবং এতে টক্সিন বা কোনো ক্ষতিকারক উপাদান থাকে না। তবে মজার ব্যাপার, ক্লিন beauty কোন একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। অনেকেই ক্লিন বিউটি ইন্ডাস্ট্রি বলতে বোঝেন প্রিজারভেটিভ, প্যারাবেন, এসেনশিয়াল অয়েল, কিছু প্রাকৃতিক নির্যাস, সোডিয়াম লরিল সালফেট, গ্লাইকোল, পেট্রোলাটাম, মিনারেল oil, সিলিকন, অ্যালকোহল, সুগন্ধি এবং রঞ্জক জাতীয় উপাদানগুলি থাকবে না। কিন্তু এই সব উপাদানই ত্বকের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয় তাই এগুলো সহ স্কিন কেয়ার প্রডাক্ট ও অনেক ভাল।
অন্য দিকে,প্রাকৃতিক স্কিন কেয়ার এর উপাদান আসে উদ্ভিদ থেকে। যেগুলো সরাসরি মুখে ব্যাবহার করা হয়। যার ভালমন্দ বিচারের জন্য কোন প্রকার মানদণ্ড নেই। কোন প্রকার ল্যাব টেস্ট হয় না। কোন প্রকার রিসার্চ করার সুযোগ থাকে না .একমাত্র ,প্রকৃতি থেকে এসেছে বলেই সেটা নিরাপদ এমন ভাবার কোন কারণ নেই। উদাহরণস্বরূপ, ধুতুরা কিন্তু প্রাকৃতিকভাবেই পাওয়া যায়, তবে সেটা এক ধরনের বিষ।
আবার , প্রাকৃতিক নির্যাসযুক্ত পণ্যগুলিও সংবেদনশীলতা এবং irritation সৃষ্টি করতে পারে। যেমন — লেবু এবং কমলার মতো সাইট্রাস- ভিত্তিক নির্যাসগুলি খুব irritating -বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ধরণের জন্য। লেবুর নির্যাসের উচ্চ অম্লতার/ অ্যাসিডিক থাকার কারণে, নিয়মিত ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে।
কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের pore clogged করে দিতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের প্রাকৃতিক/নিজস্ব তেলকে(যেটা ত্বকের জন্য জরুরি) ধুয়ে দিতে পারে এবং ত্বককেপানিশূন্য করে ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, খাঁটি নারকেল তেল অন্যান্য তেলের তুলনায় অত্যন্ত ঘন। এটি ত্বকের/ স্ক্যাল্প এর pore দিয়ে absorb হয় না, এটি ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ম্যাসেজ করার কারণে এটি ত্বকের উপরের অংশে প্রবেশ না করেই pore গুলো আটকে রাখতে পারে। নারকেল তেল তখন ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়াকে আটকে রাখে, ব্রণ তৈরি করে।
কেন অনেক ব্যাক্তি কসমেটিক formulator এর প্রোডাক্ট ব্যবহারে ভয় পান কেন?
মূল কারণ, তারা ভাবেন এগুলো রাসায়নিক ভাবে তৈরি, এতে কেমিক্যাল / রাসায়নিক পদার্থ আছে এবং এগুলিকে ত্বকের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করে। অনেক ব্যাক্তি বিশ্বাস করেন যে প্রাকৃতির সব নিরাপদ, যার অর্থ যদি একটি পণ্যে সমস্ত প্রাকৃতিক উপাদান থাকে তবে এটি ত্বকের জন্য আরও ভাল হবে। হাস্যকর কথা এবং খুবই ওযৌক্তিক কথা.
বেশিরভাগ ব্যাক্তি অজানাকে ভয় পান, যেমন পণ্যের লেবেলে দীর্ঘ উপাদানের নাম। এইসব নাম দেখে ভয় পেয়ে যান। এই ব্যক্তি হয়তো বুঝতেও পারেন না যে তাদের তথাকথিত natural পণ্যের বিশ্লেষণ করলে এগুলো ও পাওয়া যাবে।এবং সেই সাথে, তারা তথাকথিত প্রাকৃতিক স্কিনকেয়ার কোম্পানি দ্বারা প্রভাবিত।
ত্বকের জন্য মারাত্তক বিপদজ্জনক কিছু DIY নিয়ে আলোচনা করব। যে উদাহরণ গুলো দিব ,এর বাইরেও অনেক DIY আছে।
DIY সানস্ক্রিন:
স্কিন কেয়ার এ সবথেকে কঠিন কাজ হল Sunscreen formulation করা। যেখানে কসমেটিকস ইন্ডাস্ট্রি দিন রাত এক করে দিয়ে ভাল ভাল sunscreen বানিয়ে ও অনেক সময় এসপিএফ এর *লেভেল টেস্ট এ ফেইল আসছে, সেখানে এই ঘরে ব্লেন্ডারে মিক্স করলেই সেটা Sunscreen হয়ে যাবে!!!! এখন আপনি বলতে পারেন, আমিতো বাজার থেকেই sunscreen কিনেছি, তবুও আপনি প্রটেকশন পাচ্ছেন না - সেক্ষেত্রে কিছু জিনিস খেয়াল করে দেখুন। আপনার sunscreen এর এসপিএফ লেভেল কত? আপনি ঠিক পরিমাণে ইউজ করছেন কিনা? সঠিক সময়ে reapply করছেন কিনা এমন অনেক কিছু। কম দাম /তথাকথিত রিভিও দেখেই এমন sunscreen কিনে ইউজ করা শুরু করলেন যাতে কোন ইউভি ফিল্টার ই নেই , আপনি সেই sunscreen থেকে কোন প্রটেকশন পাবেন না।।তাই বলে DIY sunscreen এর বিকল্প হতে পারে না। ভাল মানের sunscreen ইউজ করুন এবং নিয়ম মেনে ব্যাবহার করুন। তাহলেই সূর্য থেকে নিজেকে সুরক্ষিত করতে পারবেন।
ত্বক ফর্সা করার জন্য লেবুর রস:
যখন আপনার মুখে লেবুর রস লাগিয়ে ফেলেন, তখন এটি আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক barrier কে ধ্বংস করে এবং sun sensitivity বাড়ায়। ফলস্বরূপ, সূর্যের দাগ থেকে মুক্তি পেতে আপনি লেবুর রস ব্যাবহার করছেন, সেটাই আপনার ত্বক কে আরো বেশি sun sensitive বানিয়ে ফেলে। এর ফলে, ত্বক সূর্য দ্বারা আরো বেশি damage হয়। ত্বক এর ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে যায় , যা গুরুতর ব্রণ/ ব্রেকআউট এর প্রধান কারণ হতে পারে।
DIY স্ক্রাব:
ফেস স্ক্রাবিং ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর, বিশেষ করে যারা ব্রণে ভুগছেন বা যারা সংবেদনশীল ত্বকের অধিকারী. বেকিং সোডা, দারুচিনি, চিনি এবং অন্যান্য ঘর্ষণকারী পদার্থ ধারণকারী DIY স্ক্রাবগুলি আপনার ত্বকের জন্য খুবই বিপজ্জনক।
বেকিং সোডা ত্বকের লিপিড ব্যারিয়ার কে ধ্বংস করে ত্বক কে পানিশূন্য এবং দ্রুত অকাল বার্ধক্যের প্রবণ করে তোলে।
দারুচিনি, চিনি এবং অনুরূপ জিনিস দিয়ে তৈরি স্ক্রাবগুলি ত্বকে হালকা cut (micro cut)দেয়,এর ফলে ত্বকে ছোট ছোট ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ত্বক লাল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে। বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্ক্রাব গুলোও মুখের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
ফেস ক্রিমের পরিবর্তে তেল ব্যাবহার করা:
যদিও বাদাম বা ভিন্ন তেল ব্যবহারে তাত্ক্ষণিকভাবে মনে হয় সেটা ময়শ্চারাইজিং এবং আরাম প্রদান করছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আসলে পুরোটাই বিপরীত। 100% তেল ত্বকের পৃষ্ঠে একটি ফিল্ম তৈরি করে, যা আপনার ত্বককে স্বাভাবিকভাবে "শ্বাস নিতে" দেয় না এবং pore clogging হয়ে একনি ব্রেকআউট সহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।
ব্রণের জন্য টুথপেস্ট:
টুথপেস্ট আপনার ত্বকের জন্য আক্রমণাত্মক হতে পারে। তাই এটি ব্যবহার করলে মারাত্মক জ্বালা বা এমনকি বার্ন ও হতে পারে। don't use toothpaste on acne, use toothpaste on tooth .
Content Courtesy: Samina Noor Tracy
